যশোর টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ | Jashore to khulna Train Schedule

যশোর টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে অফিস, ব্যবসা, চিকিৎসা বা পড়াশোনার কাজে নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করা সহজ হয়। ২০২৬ সালের প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী এই রুটে ৬টি আন্তঃনগর এবং ৪টি মেইল এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। আসনভেদে ভাড়া ৭০ থেকে ২৩৬ টাকা পর্যন্ত।

তবে রেলওয়ের সময়সূচী, ছুটির দিন এবং আসনভাড়া পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা ই-টিকিট সিস্টেমে সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে নিন। বিশেষ করে রাতের ট্রেনের সময় পড়ার ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার সময়পদ্ধতি বুঝে নেওয়া জরুরি।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ

  • যশোর থেকে খুলনা রুটে মোট ১০টি ট্রেনের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
  • আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রার সময় সাধারণত প্রায় ১ ঘণ্টা ১৩ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
  • অন্যদিকে মেইল এক্সপ্রেসে সময় প্রায় ১ ঘণ্টা ২৬ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা।
  • আসনভেদে ভাড়া ৭০, ৯৫, ১৩৩, ১৫৬ এবং ২৩৬ টাকা।

যশোর টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী

যশোর টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী এই রুটে কপোতাক্ষ, সুন্দরবন, রুপসা, সীমান্ত, সাগরদারি এবং চিত্রা এক্সপ্রেস আন্তঃনগর সেবা দেয়। পাশাপাশি মহানন্দ, রকেট, নকশিকাথা এক্সপ্রেস এবং বেনাপোল কমিউটার মেইল বা কমিউটার সেবা হিসেবে তালিকাভুক্ত।

নিচের সময়গুলো যশোর স্টেশন থেকে ছাড়ার এবং খুলনা স্টেশনে পৌঁছানোর সময় হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তাই রাত ১২টার পরের সময়গুলো ভোর বা রাত হিসেবে ভালোভাবে দেখে নিন। যেমন ০২ঃ৫৯ AM মানে রাত পেরিয়ে ভোরের সময়।

চলাচলকারী ট্রেনের তালিকা

  • কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস (৭১৬)
  • সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৬)
  • রুপসা এক্সপ্রেস (৭২৮)
  • সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৮)
  • সাগরদারি এক্সপ্রেস (৭৬২)
  • চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৪)
  • মহানন্দ এক্সপ্রেস (১৬)
  • রকেট এক্সপ্রেস (২৪)
  • নকশিকাথা এক্সপ্রেস (২৬)
  • বেনাপোল কমিউটার (৫৪)

আন্তঃনগর ট্রেন কখন ছাড়ে?

যশোর থেকে খুলনার আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর ছাড়ার সময় ভোর ৩টা থেকে রাত ৭টা ৫ মিনিটের মধ্যে। ফলে দ্রুত ও তুলনামূলক আরামদায়ক যাত্রার জন্য আন্তঃনগর ট্রেন অনেক যাত্রীর পছন্দ। তবে প্রতিটি ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ আলাদা।

ট্রেননম্বরযশোর ছাড়েখুলনায় পৌঁছায়সাপ্তাহিক বন্ধ
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস৭১৬০৭ঃ০৫ PM০৮ঃ২৫ PMশুক্রবার
সুন্দরবন এক্সপ্রেস৭২৬০২ঃ৩৫ PM০৩ঃ৫০ PMবুধবার
রুপসা এক্সপ্রেস৭২৮০৫ঃ০৭ PM০৬ঃ২০ PMবৃহস্পতিবার
সীমান্ত এক্সপ্রেস৭৪৮০২ঃ৫৯ AM০৪ঃ২০ PMসোমবার
সাগরদারি এক্সপ্রেস৭৬২১০ঃ৩৯ AM১২ঃ১০ PMসোমবার
চিত্রা এক্সপ্রেস৭৬৪০৩ঃ৪৪ AM০৫ঃ০০ AMরবিবার

সীমান্ত এক্সপ্রেসের ছাড়ার সময় ০২ঃ৫৯ AM এবং পৌঁছানোর সময় ০৪ঃ২০ PM হিসেবে দেওয়া আছে। ফলে এতে যাত্রার সময় অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ দেখায়। তাই এই নির্দিষ্ট ট্রেনের সময় টিকিট কাটার আগে ই-টিকিট সিস্টেম বা স্টেশন কাউন্টারে যাচাই করা নিরাপদ। ভুল সময় ধরে স্টেশনে গেলে পরিকল্পনা বিঘ্নিত হতে পারে।

আরো পড়ুন:  ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেন ভাড়া ২০২৬ - ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচী

আন্তঃনগর ট্রেন বাছাইয়ের বাস্তব টিপস

সকালবেলার যাত্রায় সাগরদারি এক্সপ্রেস বা চিত্রা এক্সপ্রেস বিবেচনা করা যায়। বিকেলের ক্ষেত্রে সুন্দরবন ও রুপসা এক্সপ্রেস সুবিধাজনক হতে পারে। আবার সন্ধ্যার যাত্রায় কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস উপযোগী। তাই সাপ্তাহিক বন্ধের দিনটি আগে মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

ধরা যাক খুলনায় সকাল ৯টার মধ্যে পৌঁছাতে হবে। সে ক্ষেত্রে ভোরের ট্রেন বেছে নেওয়া যুক্তিযুক্ত হলেও স্টেশনে পৌঁছানোর সময়, স্থানীয় যানজট এবং প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সময় হিসাব করতে হবে। তাই নির্ধারিত ছাড়ার অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে যশোর স্টেশনে থাকা ভালো।

মেইল এক্সপ্রেসের সময়সূচী কী?

যশোর থেকে খুলনার মেইল এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো দিনের বিভিন্ন সময়ে চলাচল করে। এই তালিকায় মহানন্দ, রকেট, নকশিকাথা এবং বেনাপোল কমিউটার রয়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী চারটি ট্রেনের কোনো সাপ্তাহিক বন্ধ নেই। তবুও রেলওয়ের কার্যক্রমে সাময়িক পরিবর্তন হলে যাত্রার আগে তথ্য যাচাই করা দরকার।

ট্রেননম্বরযশোর ছাড়েখুলনায় পৌঁছায়সাপ্তাহিক বন্ধ
মহানন্দ এক্সপ্রেস১৬০২ঃ৪০ PM০৪ঃ৪০ PMনাই
রকেট এক্সপ্রেস২৪১০ঃ২৫ PM১১ঃ৪৫ PMনাই
নকশিকাথা এক্সপ্রেস২৬০৮ঃ০০ PM১০ঃ০০ PMনাই
বেনাপোল কমিউটার৫৪০৪ঃ৪৪ PM০৬ঃ১০ PMনাই

মেইল ট্রেনের মধ্যে বেনাপোল কমিউটার বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে খুলনায় পৌঁছানোর কথা। অন্যদিকে রকেট এক্সপ্রেস রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে ১১টা ৪৫ মিনিটে পৌঁছায়। ফলে শহরের কাজ শেষে ফেরার জন্য রাতের এই সময়টি কিছু যাত্রীর ক্ষেত্রে সুবিধাজনক হতে পারে।

কোন সময়ে স্টেশনে পৌঁছাবেন?

ট্রেন ছাড়ার সময়ের ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানো নিরাপদ অভ্যাস। অনলাইনে টিকিট থাকলেও পরিচয়পত্র, টিকিটের কপি এবং প্ল্যাটফর্ম খুঁজতে সময় লাগতে পারে। তাই ছুটির দিন, বৃষ্টির সময় বা ব্যস্ত সন্ধ্যায় আরও কিছু অতিরিক্ত সময় হাতে রাখুন।

যশোর টু খুলনা ট্রেনের ভাড়া কত?

যশোর টু খুলনা ট্রেনের ভাড়া আসনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। প্রদত্ত ২০২৬ সালের ভাড়া তালিকায় সর্বনিম্ন শোভন চেয়ারের ভাড়া ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ এসি বার্থের ভাড়া ২৩৬ টাকা। অনলাইনে টিকিট কাটার সময় মূল ভাড়ার সঙ্গে প্রযোজ্য সার্ভিস চার্জ বা অতিরিক্ত ফি আলাদাভাবে দেখা যেতে পারে।

আসনের ধরনভাড়া
শোভন চেয়ার৭০ টাকা
প্রথম সিট৯৫ টাকা
স্নিগ্ধা সিট১৩৩ টাকা
এসি সিট১৫৬ টাকা
এসি বার্থ২৩৬ টাকা

সাধারণ বাজেটের যাত্রায় ৭০ টাকার শোভন চেয়ার সবচেয়ে কম খরচের বিকল্প। অন্যদিকে আরাম ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ চাইলে স্নিগ্ধা বা এসি সিট বিবেচনা করা যায়। রাতের যাত্রায় এসি বার্থের প্রয়োজন হতে পারে, তবে আসন পাওয়া ট্রেন ও তারিখভেদে বদলাতে পারে।

আরো পড়ুন:  সিলেট টু ময়মনসিংহ বাসের সময়সূচী, ভাড়া, কাউন্টার নাম্বার

বাংলাদেশ রেলওয়ে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কাউকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার দরকার নেই। তাই কাউন্টার বা অনলাইন বুকিংয়ের সময় প্রদর্শিত ভাড়া মিলিয়ে নিন। কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির কাছ থেকে টিকিট না কেনাই নিরাপদ।

অনলাইনে টিকিট কাটবেন কীভাবে?

যশোর টু খুলনা ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কাটতে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যায়। প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিট সেবায় প্রবেশ করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এরপর যাত্রার তারিখ, স্টেশন এবং আসনের ধরন নির্বাচন করে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হয়।

  1. প্রথমে ই-টিকিট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিবন্ধনের অপশন নির্বাচন করুন।
  2. এরপর ফোন নম্বর, জিমেইল আইডি, NID-সংক্রান্ত তথ্য এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
  3. তারপর ফোন নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করুন।
  4. From ঘরে যশোর এবং To ঘরে খুলনা নির্বাচন করুন।
  5. এরপর যাত্রার তারিখ ও আসনের বিভাগ বেছে নিয়ে ট্রেন সার্চ করুন।
  6. পছন্দের ট্রেন ও আসন নির্বাচন করে যাত্রীর তথ্য যাচাই করুন।
  7. বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে প্রদর্শিত মূল্য পরিশোধ করুন।
  8. পেমেন্ট শেষ হলে অনলাইন টিকিট বা রসিদ সংরক্ষণ করুন।

মোবাইলে রসিদের স্ক্রিনশট রাখার পাশাপাশি ই-মেইল বা PDF কপিও সংরক্ষণ করুন। কারণ ফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই প্রয়োজন হলে টিকিটের কপি প্রিন্ট করে রাখুন এবং যাত্রার সময় ব্যবহৃত পরিচয়পত্র সঙ্গে নিন।

স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট

যশোর বা খুলনা রেলস্টেশন থেকেও কাউন্টার টিকিট কেনা যায়। কাউন্টারে যাওয়ার আগে যাত্রার তারিখ, ট্রেনের নাম, আসনের ধরন এবং যাত্রীর সংখ্যা ঠিক করে রাখুন। ভিড়ের সময় দীর্ঘ অপেক্ষা হতে পারে। তাই ব্যস্ত দিনে আগে পৌঁছানো বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।

টিকিট কাটার সময় সতর্কতা

  • নাম ও পরিচয়পত্রের তথ্য ভুল লিখবেন না।
  • যাত্রার তারিখ নিশ্চিত না হয়ে পেমেন্ট করবেন না।
  • পেমেন্টের পর টিকিট নম্বর বা রসিদ হারিয়ে ফেলবেন না।
  • ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিনটি বুকিংয়ের আগে পরীক্ষা করুন।
  • অনলাইন পেমেন্ট আটকে গেলে পুনরায় টাকা পাঠানোর আগে লেনদেনের অবস্থা যাচাই করুন।

যশোর থেকে খুলনা কত দূর?

যশোর থেকে খুলনার দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সড়ক ও রেলপথের পরিমাপের পদ্ধতি এক নয়। তাই গুগল ম্যাপ বা অন্য কোনো মানচিত্রে দূরত্ব কিছুটা ভিন্ন দেখা যেতে পারে। ট্রেনের রুট, স্টপেজ এবং পরিচালনাগত কারণে সরলরেখার দূরত্বের সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে।

শহুরে যাতায়াতের পরিকল্পনায় শুধু ৬০ কিলোমিটার হিসাব করলেই হবে না। বরং যশোর স্টেশনে পৌঁছানো, ট্রেনের অপেক্ষা এবং খুলনা স্টেশন থেকে গন্তব্যে যাওয়ার সময়ও যোগ করুন। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিটিং থাকলে ট্রেন পৌঁছানোর নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৪৫ মিনিট পরের সময় রাখা ভালো।

ট্রেনে যেতে কত সময় লাগে?

যশোর থেকে খুলনা ট্রেনে সাধারণত ১ ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে। নির্দিষ্ট সময় ট্রেনের ধরন, স্টপেজ এবং সেদিনের পরিচালন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। প্রদত্ত সময়সূচিতে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর যাত্রা প্রায় ১ ঘণ্টা ১৩ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের মধ্যে দেখা যায়।

আরো পড়ুন:  জয়দেবপুর টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬

অন্যদিকে মেইল এক্সপ্রেসে সময় তুলনামূলক বেশি হতে পারে। মহানন্দ এক্সপ্রেসের সময় ২ ঘণ্টা এবং নকশিকাথা এক্সপ্রেসের সময় ২ ঘণ্টা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ফলে দ্রুত পৌঁছানোর প্রয়োজন থাকলে শুধু ছাড়ার সময় নয়, পৌঁছানোর সময়ও তুলনা করে ট্রেন নির্বাচন করুন।

সাধারণ ভুলগুলো কী?

যশোর টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী দেখার সময় সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো AM এবং PM গুলিয়ে ফেলা। এছাড়া সাপ্তাহিক বন্ধ না দেখে টিকিট কাটায় আরেকটি সমস্যা দেখা যায়। তাই ভোরের ট্রেনের ক্ষেত্রে আগের রাতেই যাত্রার প্রস্তুতি নিলে দেরি হওয়ার ঝুঁকি কমে।

  • শুধু ট্রেনের নাম দেখে সময় না মিলানো।
  • সীমান্ত এক্সপ্রেসের অস্বাভাবিক পৌঁছানোর সময় যাচাই না করা।
  • স্টেশনে পৌঁছানোর অতিরিক্ত সময় হিসাব না করা।
  • অনলাইন টিকিটের রসিদ সংরক্ষণ না করা।
  • নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে অনলাইন সার্ভিস চার্জের পার্থক্য না বোঝা।

লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, একটি সময়সূচী মুখস্থ করার চেয়ে যাত্রার তারিখে ট্রেনটি সত্যিই চলবে কি না তা নিশ্চিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আসন ও ট্রেনের উপস্থিতি দেখা গেলে পুরোনো তালিকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে হয় না।

যাত্রার আগে শেষবার যাচাই

যশোর টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া যাত্রা পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি করে। ২০২৬ সালের প্রদত্ত তথ্যে ১০টি ট্রেন, পাঁচ ধরনের আসন এবং প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরত্বের উল্লেখ রয়েছে। তবে রেলওয়ের বাস্তব পরিচালনায় সাময়িক পরিবর্তন হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনলাইন সিস্টেম বা স্টেশন কাউন্টার থেকে মিলিয়ে নিন।

নিয়মিত যাত্রী হলে রুটভেদে তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা সুবিধাজনক। দূরপাল্লার বিকল্প দেখতে ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচীও দেখে নিতে পারেন। পাশাপাশি যাত্রার দিন টিকিট, পরিচয়পত্র এবং ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থার তথ্য সঙ্গে রাখুন।

প্রশ্নোত্তর

যশোর থেকে খুলনায় মোট কতটি ট্রেন চলে?

প্রদত্ত তালিকা অনুযায়ী যশোর থেকে খুলনা রুটে মোট ১০টি ট্রেন রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি আন্তঃনগর এবং ৪টি মেইল এক্সপ্রেস বা কমিউটার সেবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যশোর টু খুলনা ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া কত?

শোভন চেয়ার আসনের ভাড়া ৭০ টাকা। তবে অনলাইনে বুকিংয়ের সময় প্রযোজ্য সার্ভিস চার্জ থাকলে মোট পরিশোধের পরিমাণ আলাদা দেখা যেতে পারে।

কোন আন্তঃনগর ট্রেন শুক্রবার বন্ধ?

কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ শুক্রবার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তাই যাত্রার আগে ই-টিকিট প্ল্যাটফর্মে ওই দিনের ট্রেন চলাচল এবং আসন পাওয়া যাচ্ছে কি না দেখে নিন।

মেইল এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোর কি সাপ্তাহিক বন্ধ আছে?

প্রদত্ত সময়সূচীতে মহানন্দ, রকেট, নকশিকাথা এবং বেনাপোল কমিউটারের সাপ্তাহিক বন্ধ ‘নাই’ বলা হয়েছে। তবে পরিচালনাগত পরিবর্তনের কারণে চূড়ান্ত তথ্য স্টেশন বা অফিসিয়াল সিস্টেমে যাচাই করুন।

যশোর থেকে খুলনা ট্রেনে কত সময় লাগে?

সাধারণত ১ ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে। তবে মেইল এক্সপ্রেসে সময় বেশি হতে পারে, কারণ ট্রেনের ধরন ও সম্ভাব্য স্টপেজ ভিন্ন।

ট্রেন ছাড়ার কত আগে স্টেশনে যাব?

কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানো ভালো। তবে ভিড়, টিকিট যাচাই বা প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলে আরও আগে গেলে অপেক্ষার চাপ কমে।

সীমান্ত এক্সপ্রেসের সময় কি নিশ্চিত?

প্রদত্ত তালিকায় সীমান্ত এক্সপ্রেসের ছাড়ার সময় ০২ঃ৫৯ AM এবং পৌঁছানোর সময় ০৪ঃ২০ PM লেখা আছে। সময়ের ব্যবধান অস্বাভাবিক হওয়ায় বুকিংয়ের আগে অফিসিয়াল সিস্টেমে অবশ্যই যাচাই করুন।

যাত্রার আগে যশোর টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচী, সাপ্তাহিক বন্ধ, আসন এবং মোট ভাড়া একসঙ্গে মিলিয়ে নিন। ফলে ভুল ট্রেন, ভুল তারিখ বা অসম্পূর্ণ টিকিটের কারণে তৈরি হওয়া ঝামেলা অনেকটাই এড়ানো যায়।

Rakib Hasan

আমি একজন লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি খবর, চাকরি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে তথ্যবহুল ও সহজবোধ্য কনটেন্ট প্রকাশ করেন। তাঁর লক্ষ্য পাঠকদের সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য প্রদান করা।

Sharing Is Caring:

Leave a Comment