বসুন্ধরা, যমুনা, ওমেরা, বিএম এলপিজি গ্যাসের দাম ২০২৬ জানতে গিয়ে অনেকেই সরকারি রেট ও দোকানের বাস্তব দামের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখছেন। ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন দোকানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ২,৩০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের বিইআরসি নির্ধারিত ১,৫৮৫ টাকার চেয়ে প্রায় ৭০০ থেকে ১,০০০ টাকা বেশি।
কোথাও আবার বাড়তি দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে ভোক্তারা জানিয়েছেন। তাই কেনার আগে শুধু ব্র্যান্ডের নাম নয়, সরকারি রেট, দোকানের মজুত, ডেলিভারি চার্জ ও সিলিন্ডারের নিরাপত্তা চিহ্ন—সবকিছু একসঙ্গে যাচাই করা জরুরি।
- ১২ কেজির সেপ্টেম্বরের সরকারি দাম: ১,৫৮৫ টাকা
- সেপ্টেম্বরে রাজধানীর অধিকাংশ দোকানের দাম: প্রায় ২,০০০ টাকা
- ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সাম্প্রতিক খুচরা দাম: ২,৩০০–২,৫০০ টাকা
- সরকারি দামের তুলনায় বাড়তি: প্রায় ৭০০–১,০০০ টাকা
বসুন্ধরা, যমুনা, ওমেরা, বিএম এলপিজি গ্যাসের দাম ২০২৬ কত
বসুন্ধরা, যমুনা, ওমেরা ও বিএমের তালিকাভুক্ত ১২ কেজির দাম যথাক্রমে ১,৬৫০ টাকা, ১,৭২৮ টাকা, ১,২৮০ টাকা ও ১,৩৫০ টাকা। তবে এগুলো কোম্পানি বা সরবরাহ করা তালিকার দাম। অন্যদিকে রাজধানীর সাম্প্রতিক খুচরা বাজারে একই ওজনের সিলিন্ডার ২,৩০০–২,৫০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
| ব্র্যান্ড | ওজন | তালিকাভুক্ত দাম | দাম সম্পর্কে সতর্কতা |
|---|---|---|---|
| বসুন্ধরা | ১২ কেজি | ১,৬৫০ টাকা | বর্তমান দোকানের দাম আলাদা হতে পারে |
| যমুনা | ১২ কেজি | ১,৭২৮ টাকা | খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ আছে |
| ওমেরা | ১২ কেজি | ১,২৮০ টাকা | তথ্যটি পুরোনো হতে পারে |
| বিএম | ১২ কেজি | ১,৩৫০ টাকা | তথ্যটি পুরোনো হতে পারে |
লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, ওমেরা ও বিএমের তালিকাভুক্ত দাম বিইআরসির সেপ্টেম্বরের ১২ কেজির রেট ১,৫৮৫ টাকার চেয়েও কম। তাই ১,২৮০ বা ১,৩৫০ টাকায় বর্তমানে সিলিন্ডার পাওয়া যাবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বরং দোকানে যাওয়ার আগে স্টক ও মোট মূল্য নিশ্চিত করাই বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।
সরকারি রেট ও দোকানের দামের পার্থক্য কেন
সরকারি রেট ও খুচরা দামের ব্যবধানের পেছনে সরবরাহ, আমদানি ব্যয়, পরিবহন এবং বিতরণ ব্যবস্থার একাধিক বিষয় কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে উঠে এসেছে। তবে কোনো একটি পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত কারণ হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
ভোক্তাদের অভিযোগ কী
ভোক্তাদের অভিযোগ, সংকটের কথা বলে খুচরা বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁদের কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গ্রাহকদের জিম্মি করার অভিযোগ তুলেছেন। ফলে চাপটি শুধু বাসাবাড়ির ব্যবহারকারীদের ওপর নয়, ছোট ব্যবসায়ীদের ওপরও পড়ছে।
বিক্রেতারা কী বলছেন
খুচরা বিক্রেতারা পরিবেশক ও ডিলারদের দিকে দায় দিচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাৎ খুচরা পর্যায়ের দাম বাড়ার আগে সরবরাহ শৃঙ্খলের আগের ধাপেই ব্যয় বেড়েছে—এমন দাবি তাঁদের।
সরকারের অবস্থান কী
জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সচিবালয়ে জানিয়েছেন, দেশে এলপি গ্যাসের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও তিনি দিয়েছেন।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যটি হলো: সরকার সরবরাহে ঘাটতি অস্বীকার করছে, আর ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকেরা আমদানি কমা ও কার্গো সমস্যার কথা বলছেন। ফলে ভোক্তার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো একাধিক দোকানের দাম যাচাই করা এবং রসিদ বা বিক্রির প্রমাণ সংরক্ষণ করা।
আমদানি কমেছে কতটা
সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে তা নেমে আসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক মাসে কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন, যা আনুমানিক ২৫ শতাংশ।
বাংলাদেশের এলপিজির প্রধান আমদানি উৎস মধ্যপ্রাচ্য। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানকার যুদ্ধাবস্থায় লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পরিবহন জটিল হয়েছে। ফলে বিকল্প পথে কার্গো আনতে সময় এবং ব্যয় দুটোই বেড়েছে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০–৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। তবে আমদানিকারকদের দাবি, বাড়তি এই ব্যয় বিইআরসির মাসিক দামে পুরোপুরি সমন্বয় হচ্ছে না।
কার্গো সরবরাহে কী সমস্যা
মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রেজার ভাষ্য, কার্গো পাওয়াই এখন বড় সমস্যা। যদিও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি আছে, অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়েছে।
ওমেরা পেট্রোলিয়ামের সিইও তানজীম চৌধুরী জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে তাঁদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। অন্যদিকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু প্রতিষ্ঠানের জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানো সেপ্টেম্বরের ঘাটতির একটি কারণ।
দেশে বছরে প্রায় ১৫–১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত হয় এবং প্রায় ৯৮ শতাংশ এলপিজি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমদানি করে। তাই অক্টোবরের বাজার পরিস্থিতি নির্ভর করবে নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো পৌঁছানো ও নতুন কার্গো নিশ্চিত হওয়ার ওপর।
বিইআরসির ১২ কেজির দাম কত
বিইআরসি সেপ্টেম্বরের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১,৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। অন্য ওজনের অঙ্ক ১২ কেজির অনুপাতে হিসাব করা হয়েছে। তাই তারকাচিহ্নিত দামগুলো আনুমানিক।
| সিলিন্ডারের ওজন | সরবরাহ করা দাম |
|---|---|
| ৫.৫ কেজি | ৭২৬ টাকা* |
| ১২ কেজি | ১,৫৮৫ টাকা |
| ১২.৫ কেজি | ১,৬৫১ টাকা* |
| ১৫ কেজি | ১,৯৮১ টাকা* |
| ১৬ কেজি | ২,১১৩ টাকা* |
| ১৮ কেজি | ২,৩৭৮ টাকা* |
| ২০ কেজি | ২,৬৪২ টাকা* |
| ২২ কেজি | ২,৯০৬ টাকা* |
| ২৫ কেজি | ৩,৩০২ টাকা* |
| ৩০ কেজি | ৩,৯৬৩ টাকা* |
| ৩৩ কেজি | ৪,৩৫৯ টাকা* |
| ৩৫ কেজি | ৪,৬২৩ টাকা* |
| ৪৫ কেজি | ৫,৯৪৪ টাকা* |
*তারকাচিহ্নিত অঙ্কগুলো ১২ কেজির অনুপাতে করা আনুমানিক হিসাব। তবে দোকানের বর্তমান দাম জানতে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার কাছ থেকে মোট মূল্য জেনে নিতে হবে।
ব্র্যান্ডভেদে অন্যান্য সিলিন্ডারের তালিকা
সরবরাহ করা তালিকায় বসুন্ধরা, যমুনা, ওমেরা, বিএম ছাড়াও ওরিয়ন ও নাভানার কিছু সিলিন্ডারের দাম রয়েছে। নিচের অঙ্কগুলো তালিকাভুক্ত বা কোম্পানির নির্ধারিত দাম হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তবে এগুলো ১ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিটি দোকানের নিশ্চিত খুচরা দাম নয়।
| ব্র্যান্ড | ওজন | দাম |
|---|---|---|
| বসুন্ধরা | ৩০ কেজি | ৩,৪৫০ টাকা |
| বসুন্ধরা | ৪৫ কেজি | ৫,৪০০ টাকা |
| যমুনা | ৫.৫ কেজি | ৬০০–৭০০ টাকা |
| যমুনা | ৩৫ কেজি | ৪,৮০০–৫,০০০ টাকা |
| যমুনা | ৪৫ কেজি | ৫,৮০০–৬,৪০০ টাকা |
| ওমেরা | ৫.৫ কেজি | ৬৬৭ টাকা |
| ওমেরা | ২৫ কেজি | ৩,০৩০ টাকা |
| ওমেরা | ৩৫ কেজি | ৪,২৫৪ টাকা |
| ওমেরা | ৪৫ কেজি | ৫,৪৫৪ টাকা |
| বিএম | ২০ কেজি | ২,৪০০–২,৫০০ টাকা |
| বিএম | ৩৩/৩৫ কেজি | ৫,০০০–৫,৫০০ টাকা |
| ওরিয়ন | ১২ কেজি | ১,৪৭০–১,৫০০ টাকা |
| নাভানা | ১২ কেজি | ১,৭২৮ টাকা |
| নাভানা | ৩৩ কেজি | ৪,৭৫৩ টাকা |
| নাভানা | ৩৫ কেজি | ৫,০৪১ টাকা |
কেনার আগে কোন বিষয়গুলো দেখবেন
সীমিত বাজেটে সিলিন্ডার কিনলে প্রথমেই মোট খরচ পরিষ্কার করা দরকার। শুধু সিলিন্ডারের ঘোষিত দাম জানলে হবে না; বরং ডেলিভারি, খালি সিলিন্ডার বদল, মজুত এবং ব্র্যান্ডের সত্যতা—সবকিছু মিলিয়ে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হতে পারে।
- প্রথমে বিইআরসির সর্বশেষ ১২ কেজির নির্ধারিত রেট দেখে নিন।
- এরপর অন্তত দুটি দোকানে একই ব্র্যান্ড ও ওজনের দাম জিজ্ঞেস করুন।
- ডেলিভারি চার্জ আলাদা কি না অর্ডারের আগে জেনে নিন।
- এছাড়াও সিলিন্ডারের সিল, ব্র্যান্ড, ওজন ও নিরাপত্তা চিহ্ন পরীক্ষা করুন।
- সরকারি দামের চেয়ে বেশি চাইলে বাড়তি দামের কারণ জানতে চান।
- অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যসেবায় যোগাযোগ করুন।
ঢাকায় Gas Dei, Cylinderwala ও Gas Monkey হোম ডেলিভারি দেয় বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ আছে। তবে অর্ডারের আগে তাদের স্টক, ডেলিভারি এলাকা ও মোট মূল্য নিশ্চিত করা উচিত। ঢাকার বাইরে স্থানীয় বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করাই সাধারণত বেশি বাস্তবসম্মত। তাই ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করুন।
সাধারণ ভুল ও সতর্কতা
সাধারণ একটি ভুল হলো তালিকাভুক্ত দামকে দোকানের তাৎক্ষণিক বিক্রয়মূল্য মনে করা। বিশেষ করে ওমেরার ১,২৮০ টাকা ও বিএমের ১,৩৫০ টাকার তথ্য পুরোনো হতে পারে। তাই এই অঙ্কে সিলিন্ডার না পেলে সেটিকে একাই প্রতারণার প্রমাণ বলা যাবে না। আবার বাড়তি দাম নিলেও কারণ না জেনে তা স্বাভাবিক ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
- তাই শুধু একটি দোকানের কথায় দাম চূড়ান্ত করবেন না।
- ব্র্যান্ডের নাম মিললেও সিলিন্ডারের ওজন যাচাই না করে কিনবেন না।
- একইভাবে ডেলিভারি চার্জ লুকানো আছে কি না নিশ্চিত করুন।
- স্টক নেই অথচ অগ্রিম টাকা চাওয়া হলে সতর্ক থাকুন।
- সিল বা নিরাপত্তা চিহ্ন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সিলিন্ডার গ্রহণ করবেন না।
তথ্যসূত্র হিসেবে সরবরাহ করা সময় টিভির ১ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রকাশের আগে বিইআরসির সর্বশেষ রেট ও স্থানীয় দোকানের বাস্তব দাম মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
প্রায়শ জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম কত?
সেপ্টেম্বরের জন্য বিইআরসি নির্ধারিত দাম ১,৫৮৫ টাকা। তবে ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন দোকানে ২,৩০০–২,৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
১২ কেজি গ্যাসের বর্তমান বাজারদর কত?
১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর অনেক দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২,৩০০–২,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে দাম ছিল প্রায় ২,০০০ টাকা।
বসুন্ধরা, যমুনা, ওমেরা ও বিএমের ১২ কেজির দাম কত?
তালিকাভুক্ত দাম যথাক্রমে ১,৬৫০ টাকা, ১,৭২৮ টাকা, ১,২৮০ টাকা ও ১,৩৫০ টাকা। তবে সংকটের বাজারে খুচরা দাম এর চেয়ে বেশি হতে পারে এবং ওমেরা ও বিএমের অঙ্ক পুরোনো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশে কি এলপিজির সংকট আছে?
মন্ত্রী বলেছেন সরবরাহে ঘাটতি নেই। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা আমদানি কমা, কার্গো সংকট ও পরিবহন ব্যয়ের কথা বলছেন। পাশাপাশি ভোক্তারা কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলেছেন।
বেশি দামে গ্যাস বিক্রি হলে কী করবেন?
প্রথমে কয়েকটি দোকানে দাম তুলনা করুন, তারপর বিইআরসির রেটের সঙ্গে মিলিয়ে নিন এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করুন। বিক্রির প্রমাণ সংরক্ষণ করলে বিষয়টি জানানো সহজ হয়।
ঢাকার বাইরে সিলিন্ডার কোথা থেকে কিনবেন?
ঢাকার বাইরে স্থানীয় পরিবেশক বা পরিচিত বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করাই বাস্তবসম্মত। তবে অর্ডারের আগে ব্র্যান্ড, ওজন, মজুত, ডেলিভারি খরচ ও মোট মূল্য নিশ্চিত করুন।
কেনার সিদ্ধান্তে যে বিষয়টি মনে রাখবেন
বসুন্ধরা, যমুনা, ওমেরা, বিএম এলপিজি গ্যাসের দাম ২০২৬-এর তালিকাভুক্ত অঙ্ক ও বর্তমান খুচরা দামের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। ১২ কেজির সরকারি রেট ১,৫৮৫ টাকা হলেও রাজধানীর সাম্প্রতিক দোকানদর ২,৩০০–২,৫০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। তবে এই ব্যবধানের কারণ নিয়ে ভোক্তা, বিক্রেতা, ব্যবসায়ী ও সরকারের বক্তব্য এক নয়।
তাই সিলিন্ডার কেনার আগে সর্বশেষ সরকারি রেট যাচাই করুন, দুটি বা তার বেশি দোকানে দাম জিজ্ঞেস করুন এবং অতিরিক্ত চার্জের ব্যাখ্যা নিন। সবশেষে প্রকাশের আগে তথ্যগুলো স্থানীয় বাজার ও বিইআরসির নতুন ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পরবর্তী পদক্ষেপ।
🔄 2026 সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আপডেট করা হয়েছে (সর্বশেষ তথ্য)।